শুক্রবার , জুন ২২ ২০১৮
Home / এক্সক্লুসিভ / মৌসুমী ভৌমিকঃ- গানের পথে পথচলা এক পথিক (ভিডিওসহ)

মৌসুমী ভৌমিকঃ- গানের পথে পথচলা এক পথিক (ভিডিওসহ)

মৌসুমী ভৌমিক (জন্ম: ১৯৬৪) একজন ভারতীয় বাঙালী সংগীত শিল্পী ও গীতিকার। তাঁর “এখনো গল্প লেখো” ও “আমি ঘর বাহির করি” অ্যালবাম দুইটি বাংলাদেশ ও ভারতীয় বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। বিশেষ করে ২০০০ সালে প্রকাশিত “এখনো গল্প লেখো” অ্যালবামে তাঁর গাওয়া “স্বপ্ন দেখব বলে” গানটি সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে অসম্ভব জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই গানটির একই সাথে গীতিকার, সুরকার শিল্পী নিজে। মৌসুমী ভৌমিক, শুধু সুরে নয় তার চেয়ে বেশি তার গানের কথায় প্রবেশ করেন শ্রোতার মর্মে। তার বিষাদলাগা কণ্ঠে কী যেন এক আকুতি আছে সমুদ্রস্নানে যাবার-

“আবার যেদিন তুমি সমুদ্র-স্নানে যাবে আমাকেও সাথে নিও, নেবে তো আমায়? বলো, নেবে তো আমায়?”

ওপার বাংলার জীবনমুখী বাংলা গানের যে ধারাটুকু আছে, তাতে মৌসুমী ভৌমিক একটি খুব পরিচিত নাম। বংশসম্পর্কে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আছে তার। তার বাবা ও মায়ের পূর্বপুরুষদের বাড়ি ছিল বাংলাদেশের পাবনা আর বরিশালে। কিন্তু দেশভাগের আগেই তাদের পরিবার চাকরিসূত্রে ভারতে স্থিত হন। তাই এই দেশের সঙ্গে তার কোনো স্মৃতি জড়িত নেই, তিনি পুরোপুরিই ভারতীয় নাগরিক ও শিল্পী। কিন্তু তার গান উভয় বাংলার শ্রোতৃবর্গকেই বারংবার করেছে ধন্য। ১৯৬৪ সালে মৌসুমী ভৌমিক জন্মগ্রহণ করেন ভারতের জলপাইগুড়িতে। তিনি বেড়ে উঠেছেন মেঘালয়ের শিলং-এ।

বাল্যজীবন
মৌসুমী ভৌমিক জন্মগ্রহণ করেন ভারতের জলপাইগুড়িতে। তবে তাঁর বেড়ে ওঠা উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে। তাঁর বাবা ও মায়ের পূর্বপুরুষদের বাড়ি ছিল বাংলাদেশের পাবনা আর বরিশালে। কিন্তু দেশভাগের আগেই তাঁদের পরিবার চাকরিসূত্রে ভারতে স্থিত হন। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর স্মৃতিতাড়িত কোনো সম্পর্ক ছিল না।

কর্মজীবন
মৌসুমী ভৌমিক ২০০২ সালে “পারাপার” নামে একটি গানের দল গঠন করেন, কলকাতা ও লন্ডনের সদস্য নিয়ে এটি গঠিত হয়েছিলো। ভারতীয় এবং পাশ্চাত্য সংগীতে এক যথার্থ মেল বন্ধন তৈরি করাতেই এ গানের দলের সৃষ্টি।

তারেক মাসুদের “মাটির ময়না” সিনেমার সংগীত পরিচালনাও তিনি করেছিলেন। এই সিনেমাটি ২০০২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে সমালোচক পুরস্কার এবং ২০০৩ সালে করাচির কারা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সংগীতের জন্য পুরস্কৃত হয়।

এছাড়াও তিনি বাংলা লোকগান সংগ্রহ এবং এ নিয়ে গবেষণার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
বাংলাদেশে তাঁর গবেষণার বড় দুটি ক্ষেত্র হচ্ছে বৃহত্তর ফরিদপুর এবং সিলেট।

স্বপ্ন দেখব বলে (আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের ঢেউ-এ চেপে)- মৌসুমী ভৌমিক

আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের ঢেউ-এ চেপে
নীলজল দীগন্ত ছুঁয়ে এসেছ,
আমি শুনেছি সেদিন তুমি নোনাবালি তীর ধরে
বহুদূর বহুদূর হেঁটে এসেছ।

আমি কখনও যাইনি জলে,
কখনও ভাসিনি নীলে,
কখনও রাখিনি চোখ,
ডানামেলা গাঙচিলে।
আবার যেদিন তুমি সমুদ্রস্নানে যাবে
আমাকেও সাথে নিও,
নেবে তো আমায় ?
বল, নেবে তো আমায় !

আমি শুনেছি সেদিন নাকি তুমি তুমি তুমি মিলে
তোমরা সদলবলে সভা করেছিলে,
আর সেদিন তোমরা নাকি অনেক জটিল ধাঁধাঁ
না-বলা অনেক কথা, কথা তুলেছিলে :
কেন শুধু ছুটে ছুটে চলা
একই একই কথা বলা
নিজের জন্য বাঁচা নিজেকে নিয়ে ?
যদি ভালবাসা না-ই থাকে
শুধু একা একা লাগে
কোথায় শান্তি পাব, কোথায় গিয়ে ?
বল, কোথায় গিয়ে ?

আমি শুনেছি তোমরা নাকি এখনও স্বপ্ন দ্যাখো,
এখনও গল্প লেখো, গান গাও প্রাণ ভরে,
মানুষের বাঁচা মরা এখনও ভাবিয়ে তোলে,
তোমাদের ভালবাসা এখনো গোলাপে ফোটে।
আস্থা-হারানো এই মন নিয়ে আমি আজ
তোমাদের কাছে এসে দুহাত পেতেছি,
আমি দু’চোখের গহ্বরে শূণ্যতা দেখি শুধু
রাতঘুমে আমি কোনো স্বপ্ন দেখিনা,
তাই স্বপ্ন দেখবো বলে
আমি দু’চোখ পেতেছি।
তাই তোমাদের কাছে এসে
আমি দু’হাত পেতেছি।
তাই স্বপ্ন দেখবো বলে
আমি দু’চোখ পেতেছি…

গানে গানেও মৌসুমী যেন তার মনের ভাব ঠিক বলে উঠতে পারেন না, তার কথা হারিয়ে যায় কোনো এক অতলে-

“আমার কিছু কথা ছিল তোমায় বলার, যে-ইনা আমি ঠোঁট নেড়েছি/ সেই কথাটা হারিয়ে গেল, এই সময়ের শব্দতলায়…”

এমনই ব্যক্ত-অব্যক্ত গানের কথা রচনা করেন মৌসুমী ভৌমিক, জীবনকে শব্দে এঁকে সেই ছবিতে নিজেকে খুঁজে বেড়ান অনন্যকে খোঁজার বাহানা করে।

Comments

comments

Check Also

ফাঁসি দেওয়ার আগে জল্লাদ অপরাধীর কানে কি বলে থাকে জানেন?

ফাঁসি দেওয়ার আগে জল্লাদ- ভারতে সেরকম ভাবে খুব কম ফাঁসি দেওয়া হয়ে থাকে । অন্যান্য …

error: Content is protected !!